অভিজিৎ রায় বেঁচে থাকবে প্রগতিশীল মানুষের চিন্তায় চেতনায়।
মোনাজ হক , সোমবার, মার্চ ০২, ২০১৫


মুক্তমনা চিন্তাশীল মানুষদের যখন একে একে খুন করে বাঙালি জনগোষ্ঠিকে মেধাশুন্য করা হচ্ছে তাতে এক সময় হয়ত দেশে শুধু আগাছা ছাড়া আর কিছুই থাকবে না ! তাই মুক্তমনা মানুষদের লেখা আরো বেশি পড়া ও চর্চা করা দরকার।
ড: অভিজিৎ রায় একজন সংশয় বাদী লেখক ছিলেন, তাঁর লেখায় মূলত সমাজ বিজ্ঞানীদের কাছে কিছু প্রশ্ন সম্বলিত যুক্তি খুঁজে পাওয়া যায়, যার উত্তর অভিজিত রায় খুঁজে ফিরেছেন বিগত ১২ বছর ধরে মুক্ত-মনা ব্লগে। সংশয়বাদী ও নাস্তিকতা এই দুটো মতবাদ এক জিনিস নয়। যুক্তিবাদী বিজ্ঞান বলে সংশয় হলো, ইশ্বরের অস্তিত্বকে প্রশ্ন হিসেবে দেখা আর নাস্তিকতা হলো ইশ্বরের অস্তিত্ব পুরোপুরি অস্বীকার করা।
মুক্তিযুদ্ধের ৪৪ বছর পরেও এই স্বাধীনতার মাসে আমরা অত্যান্ত উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছি যে বাংলাদেশ এখনো স্বাধীনতার শত্রুদের হাতে জিম্মি হয়ে আছে। গত ২৬শে ফেব্রুয়ারী তে বইমেলায় মুক্তমনা দার্শনিক ও লেখক অভিজিৎ রায় কে হত্যা আমাদেরকে আবারও শঙ্কিত করছে এই কারণে যে বাঙালি জাতির চিন্তাশীল লেখক ব্লগার দেরকে একের পর এক হত্যা করে বাঙালিদেরকে মেধা শূন্য করে মৌলবাদী গোঁড়ামি সমাজে ঢুকাবার চেষ্টা চলছে, যেটি একাত্তরের ১৪ ই ডিসেম্বর শুরু হয়েছে, এখনো চলছে। এক্ষেত্রে আমাদেরকে শুধু আলোচনা আর সমালোচনায় সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না, সমাজের বিভিন্ন স্তরে সুশিক্ষা ছড়িয়ে দিতে হবে এই বলে যে সমাজে মুক্ত মনা মানুষের প্রয়োজন অনস্বীকার্য, মুক্তচিন্তা দিয়েই একটি আদর্শ ও দীর্ঘস্থায়ী সমাজ গঠন করা যায়। আর তাই ইসলামী জঙ্গিদের কাছে রাজনীতিবিদরা যতটানা ঝুকিপূর্ণ অবস্থানে আছে তার চেও বেশি ঝুকিপূর্ণ অবস্থানে আছে প্রগতিশীল মুক্ত চিন্তার মানুষরা। কারণ রাজনীতিবিদরা কোনো আদর্শের বাণী জাতিকে শোনায় না বরং ক্ষমতায় টিকে থাকার অথবা ক্ষমতায় যাওয়ার কৌশলেই ব্যস্ত। অন্যদিকে মুক্তমনা লেখক কবি সাহিত্যিক বিজ্ঞান ভিত্তিক দর্শন দিয়ে জনগনকে আলোকিত করে। রাজনীতিবিদদের চাইতেও মুক্তমনা চিন্তাবিদদের আমাদের সমাজে বেশি দরকার।