পুস্তক সমালোচনা: মালিহা হক এর কবিতার বই "তোমার ভালবাসা"
বার্লিনের জানালা, বুধবার, ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০১৩


৩৫ তম একুশের বইমেলা এখন দ্বিতীয় সপ্তাহ পেরিয়ে তৃতীয় সপ্তাহে পা`দিলো, প্রথম সপ্তাহের উপচে পরা ভীঁড়টা এখন একটু কম । এমুহুর্তে প্রকাশকরা হিসেবের খাতা মেলাতেই যেন বেশি বাস্ত, আর কবি সাহিতিকরা এবার বইমেলার চত্তরে গণমানুষের গর হাজিরায় অভস্থ হয়ে পড়ল, কারণ শাহাবাগের প্রজন্ম চত্তরে না গেলেই না তাই হয়ত সেখানেই বেশির ভাগ সময় কাটাতে হয় অন্যদের সাথে কবি সাহিত্যিক দেরকেও, আর ওই প্রজন্ম চত্বরেই শুভেচ্ছা বিনিময় থেকে শুরু করে দেশের সর্বাঙ্গীন সামাজিক রাজনৈতিক আলোচনাও এখন তুঙ্গে।
এরই মধ্যে ঋতুরাজ বসন্ত তার বাসন্তি আর কমলা রঙের আবির ছড়িয়ে আগমনী বার্ত্তা ঘোষণা দিল আজ। ভালোবাসার রং বাসন্তি আর কমলার সাথে এবার যোগ হলো সংগ্রামের রঙ লাল, এবার এই প্রজন্ম চত্তরই যেন আমাদের বসন্তের ভালবাসার উপলব্ধিকে ছাড়িয়ে সংগ্রামের সাথে একাত্মতার জয়ধনী তুলল।
কথা হচ্ছিল মালিহার সাথে, মালিহা হক, ইউরোপে থাকে সুইডেন ও জার্মানির বাঙালি সমাজে এক সৃজনশীল উঠতি কবি নাম পরিচিত। বহুদিন থেকেই কবিতা লেখে এবারই ওঁর প্রথম কবিতার বই "তোমার ভালবাসা" নন্দিত প্রকাশন থেকে প্রকাশিত হলো। তোমার ভালবাসা কবিতর বইটিতে ৮০ টি কবিতা স্থান পেয়েছে (মুল্য ১৫০ টাকা) , মালিহার বেশির ভাগ কবিতা একইসাথে ভালবাস ও কঠোর বাস্তবতার নিরিখে লেখা, ওঁর ভালোবাসার কবিতায় মাঝে মধ্যে কোথায় যেন একটা অনিশ্চয়তা নিরবধি এমনকি দারুন রহস্যের চাপ ও রয়েছে । এছাড়াও ওঁর অনেক কবিতায় বিদ্রোহের চাপ লক্ষনীয় হয়তবা ওঁর ছাত্রজীবনের সচেতন বামপন্থী রাজনীতি এর জন্যে দায়ী । সমাজকে কটাক্ষ করা কবিতার আর ভালবাসার সন্ধানে এই কাবগ্রন্থ টি একটি এক্সপেরিমেন্টাল পদক্ষেপ বৈকি। ওঁর কবিতাগুলি নাতিদীর্ঘ, আর তাই হয়তবা পাঠককে সহজেই ধরে রাখতে পারে, আর অবচেতন মনে পাঠককে কবিতার ভাবসম্প্রসারণ করতে বাধ্য করে।
জিগাসা করছিলাম "শাহাবাগের প্রজন্ম চত্তরে যাবে না" উত্তরে বলল, অবশ্যই যাব, আজ যুব সমাজ গর্জে উঠেছে, রাষ্ট্র ক্ষমতায় যারা বসে নিজেদের দায়েত্ব সম্পর্কে অসচেতন তাদের কে আঙ্গুল উঁচু করে দেখাতে হবে এবং ঘোষণা দিতে হবে, আজ রাষ্ট্রের যারা মালিক, এই যুবসমাজ আজ ক্ষিপ্ত। আমাদের ঘুনেধরা সমাজ থেকে রাজাকার নামক ক্যান্সারটি সমূলে উত্কাতন করতে হবে। আর তাই আমাদের সবাইকে প্রজন্ম চত্তরে গিয়ে একাত্মতা প্রকাশ করতে হবে। মালিহা কাজ থেকে ছুটি নিয়েছে ইউরোপে থেকে ঢাকার বইমেলায় যাওয়ার প্রস্তুতি চলছে, কবি এখন আনন্দে বিহব্বল "প্রথম বই প্রকাশ প্রকাশ হলো আর সশরীরে থাকব না" সেটা হয় না।
মালিহা ১৯শে ফেব্রুয়ারী থেকে ২১শে ফেব্রুয়ারী অবদি বইমেলার নন্দিত প্রকাশনী তে থাকবে, পাঠকদের সাথে কবির পরিচয় হবে এই ভেবেই আনন্দে উদ্বেলিত মালিহা ।