"মিত্র যখন শত্রু হয়" উইনস্টন চার্চিল ১৯৪০ একটি কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন
মোনাজ হক, মঙ্গলবার, নভেম্বর ০৫, ২০১৩


[দিতীয় মহাযুদ্ধের মিত্রশক্তির দেশগুলি যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, সোভিএট্ ইউনিয়ন ও ফ্রান্স একসাথে মিলেই শত্রু পক্ষ হিটলার এর জার্মানির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিল, কিন্তু একটা সামান্য ভুলের জন্যে মিত্রশক্তির এক দেশ যুক্তরাজ্য কেন ফ্রান্স কে আক্রমন করেছিল ১৯৪০ এর ৩ নভেম্বররে এবং একটি ফরাসী নৌবহরে ১৩০০ জন সৈন্য কে একদিনে হত্যা করে যুদ্ধের এক ভয়াবহ পরিবেশ সৃষ্টি করেছিল তার কাহিনী নিয়ে এবং বিভিন্ন পত্র পত্রিকার তথ্য থেকে নিয়ে এই প্রতিবেদনটি রচনা করা]
দিতীয়মহাযুদ্ধ চলাকালীন সময় ১৯৪০ এ তত্কালীন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিল একটি কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন যেটি সেইসময়ের ইতিহাসে একটি কালো অধ্যায় বলে উল্লেখ করা হয়। চার্চিল তাঁর নিজের দেশের ও জনগনের স্বার্থে সয়ং একটি মিত্রশক্তির দের ফ্রান্স এর বিরুদ্ধে ও সমরক্রমন করতে পিছুপা হননি। হিটলারের পশ্চিম সীমান্তের সামরিক বাহিনী যখন বেলজিয়াম দখলের পরে প্রায় বিনা বাধাতেই ১৪ ই জুন ১৯৪০ ফ্রান্স দখল করে নেয় তখন যুক্তরাজ্য তাত্ক্ষণিক ভাবে সিদ্ধান্ত নেয় যে ফ্রান্স এর বিশাল সমর শক্তিকে ব্যবহার করে হিটলার হয়ত মিত্রশক্তির অন্য দেশ গুলিকেও আক্রমন করবে, এবং সেই ভীতি থেকেই উইনস্টন চার্চিল ৪ঠা জুলাই একটি টেলিগ্রাম বার্তা ব্রিটিশ সামরিক বাহিনীকে পাঠিয়েচিলের যার একটি কপি ভারতে নিযুক্ত ব্রিটিশ জিওসি দপ্তরেও পৌঁছায় সেই টেলিগ্রাম এর সারমর্ম ছিল "ফলাফল কি হতে পারে আমরা হলপ করে বলতে পারিনা, তবে সর্বান্তক সাবধানতা অবলম্বন করে আমাদেরকে প্রস্তুত থাকতে হবে মোকাবেলার জন্যে, যদি ফরাসি বাহিনি আমাদেরকে আক্রমন করে তখন পাল্টা আক্রমন করতে হবে"।
চার্চিলের আশংকা ছিল, যেহেতু ফ্রান্স এখন হিটলারের জার্মান বাহিনীর দখলে, কাজেকাজেই ফরাসী বাহিনী যে কোনো সময়ে হিটলারের কমান্ডের আওতায় এসে ব্রিটেন কে আক্রমন করবে। তাই প্রধানমন্ত্রী চার্চিল হুকুম দিলেন ফরাসী বাহিনীকে আক্রমন করার। ৩ রা নভেম্বর ১৯৪০ ব্রিটিশ বিমানবাহিনী ফরাসী নৌবহরের ৫ টি জাহাজ যেটি আলজেরিয়ার উপকূলে ভূমধ্য সাগরে অবস্থান করছিল সেটি আক্রমন করে, এতে ব্রিটিশ বিমানবহরের শতাধিক বিমানহামলায় ১৩০০ জন ফরাসী নৌসেনা একদিনে হত্যা করে, ইতিহাস বলে হিটলার নিজেও একদিনে একটি হামলায় এত বড় সংখ্যক সেনাহত্যা করেনি।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিল এর ওই টেলিগ্রামের এককপি "সিক্রেট টেলিগ্রাম" পাঠানো হয়েছিল. তৎকালীন ইম্পেরিয়াল জেনারেল স্টাফ প্রধান স্যার জন ডিল এর কাছেও। টেলিগ্রামটি কাকতালীয়ভাবে স্যার জন ডিল এর পরিবারের বেক্তিগত ডকুমেন্টের সংগ্রেহে চলে যায়। আজ সেই ঘটনার ৭৩ বছর পরে স্যার জন এর এক আত্মীয় লন্ডনে নিলামে বিক্রি করতে যাচ্ছেন, নিলামের শুরুতেই ওই টেলিগ্রামটি মুল্য ধার্য করা হয়েছে ২০০০ পাউন্ড স্টার্লিং।
উল্লেখযোগ্য যে, পরবর্তিতে চার্চিল তাঁর জীবনীতে এই ঘটনাটিকে "সঠিক সময়ে সঠিক সিধান্ত" বলে উল্লেখ করেছিলেন, চার্চিল তাঁর জীবনীগ্রন্থটি র জন্যে ১৯৫৩ সনে সুইডিস নোবেল কমিটি থেকে "সাহিত্যের নোবেল পুরস্কার" পেয়েছিলেন । আরো উল্লেখযোগ্য যে চার্চিল সেই দিতীয় মহাযুদ্ধের ঘটনাবলী তাঁর ৫ খন্ডের রচনায় "দ্বিতীয় বিসযুদ্ধ" বইটি যুদ্ধ সংক্রান্ত তথ্য সম্বলিত ডকুমেন্ট ছাড়াও একটা সাবলীল সাহিত্যের রূপ দিয়েছিলেন, যেটি যুদ্ধ পরবর্তী ১০ বছর পর্যন্ত "বেস্ট সেলার" হিসেবে খাত ছিল।
[প্রতিবেদনটি ব্রিটিশ দৈনিক "ডেইলি এক্সপ্রেস" ও ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআই থেকে ভাবানুবাদ করা হলো -মোনাজ হক]