ত্রিশ লক্ষ শহীদের রক্তের সাথে বেঈমানী করে ফেললেন খালেদা
সরাফ ও সুজিত, শুক্রবার, মার্চ ০১, ২০১৩


বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধের চলমান বিচারকে ‘প্রশ্নবিদ্ধ’ বলে মন্তব্য করলেন প্রধান বিরোধী দল বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া৷ সারা দেশে সহিংসতার দায় সরকারের ওপর চাপিয়ে একে ‘গণহত্যা’ বলে মঙ্গলবার সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ডেকেছেন৷
সাহাবাগ চত্র থেকে গর্জে ওঠা তারুন্যের ডাক ও জনতার শক্তি খালেদা জিয়া এখনো অনুধাবন করতে পারেন নাই, হয়ত ভেবেছেন এটা নিছক একটা রুলেত গেম। শাহবাগ এখন সমস্থ প্রগতিশীল বাঙালিদের অনুপ্রেরণার কেন্দ্র স্থল, এখান থেকেই দিকনিদর্ষিত হবে আগামীদিনের বাংলাদেশের। চার দশক বাঙালিদেরকে মিথ্যার কাহিনী শুনিয়েছে, এখন আর নয় এবার গর্গে উঠেছে প্রজন্ম ।
জার্মানির হানোভার থেকে এক বন্ধু, সরাফ, লিখেছে: ইতিহাসকে স্হবির করে রাখা যায় বটে তবে তার চাকা পিছনে ঠেলা যায়না। সেই একাত্তরের ইতিহাস স্মৃতি ভেসে আসছে- সংখ্যালুঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘর ও মন্দির, শ্বশানঘাট ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগের ঘটনা, এসবই একাত্তরের পুনরাবৃত্তি।এরইমধ্য ঘী ঢেলে দিলেন মাননীয় ম্যাডাম খালেদা জিয়া, ত্রিশ লক্ষ শহীদের রক্তের বিনিময়ে যে বাংলাদেশ, সেই দেশে তিনবার প্রধানমন্তী হয়েছেন তিনি-উনার ভুল হবার তো কথা নয়, ত্রিশ লক্ষ শহীদের আত্বদানে বাংলাদেশ রাষ্টটি জন্ম না নিলে উনি তো তিনবার দেশটির প্রধান নির্বাহী হবার কথা ছিল না। যুদ্ধবিরোধী, রাজকার, জামাত শিবির বিরোধী আন্দোলনে যে সহিংসতা নিয়ে একাত্তরের প্রেতাত্বারা নাচছেন, তার দমনকে উনি পৈশাচিক গনহত্যা বললেন,আসলে গণহত্যা সমন্ধে উনার বিন্দুমাত্র ধারনা নেই, কারণ একাত্তরের গনহত্যার সময় উনি ঢাকার উওরপাড়া কূর্মিটোলোয় অনেক নিরউপদ্রুপ ছিলেন, সারা বাংলাদেশের গনহত্যা দেখার দূর্ভাগ্য উনার হয়নি। চলনে অনেক আধুনিক হলেও নতুন প্রজন্মের প্রানের দাবী উনি পাঠ না করে ধর্মাশ্রয়ী আদিমতা কে প্রশয় দিয়ে ইতিহাসের চাকাকে পিছনে ঘুরাতে চাচ্ছেন, উনি ভুল করলেন, বিরাট ভুল করলেন-ত্রিশ লক্ষ শহীদের রক্তের সাথে বেঈমানী করে ফেললেন।
আর এক বন্ধু সুজিত এর মন্তব: একটি অগ্রহণযোগ্য রায়ের কারণে শাহবাগে শুরু হওয়া যে আন্দোলনটি দেশব্যাপী বিশাল আকার ধারণ করেছে – তা যে কোনদিন সম্ভব হবে, সত্যি বলতে আমরা অনেকেই তা ভুলতে বসেছিলাম। অথবা, জনতার শক্তিতে আমরা বিশ্বাস স্থাপন করতে পারিনি। তারুন্যের ডাক ও জনতার শক্তিতেই আজকের দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর ফাঁসির রায়।
মাঝখানে একটা খুব খারাপ সময় গেছে আমাদের। তখন বিভিন্ন আঁতাত আর বিশ্বাসঘাতকতার কারণে ‘ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটি’র প্রচেষ্টা তথা রাজাকার-আলবদর বিরোধী আন্দোলন পদে পদে হোঁচট খাচ্ছিল। সেই আন্দোলন কোনদিন সফলতার মুখ দেখবে সে আশা ক্ষীণ হচ্ছিল ক্রমশঃ। আর রাজাকাররা সর্বস্তরে তাদের ভিত মজবুত করে যাচ্ছিল দিনের পর দিন।
সেই সময়টা ছিল আশেপাশের অনেকের ভোল পাল্টাবার সময়। কেউ ‘নির্মূল’ শব্দটার মধ্যে জঙ্গী গন্ধ পেতে শুরু করলেন; কেউ সজ্ঞানে নির্মূল কমিটির সাথে যুক্ত সকল কিছু থেকে নিজকে প্রত্যাহার করে এই আন্দোলন থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করলেন; সব শেষে সামান্য হালুয়া-রুটির লোভে স্বঘোষিত রাজাকারদের সঙ্গে একমঞ্চে গলাগলি করে বসতে সামান্যতম লজ্জাবোধ করলেন না।
অকস্মাৎ সেইসব বর্ণচোরাদের দাপাদাপিতে ফেসবুক আর ইমেইলে চোখ পাতা দায়। যে সমস্ত ‘জিন্দাবাদ’প্রেমীরা ‘জয় বাংলা’র মধ্যে হিন্দুত্ব খুঁজে পেতেন, আজ তারা জয় বাংলা স্লোগান না দিয়ে জলগ্রহণ করছেন না! এসব দেখেশুনে বিবমিষাবোধ ছাড়া আর কোন অনুভূতি হয় না।
রাজাকার-আলবদর-যুদ্ধপরাধী-ধর্মব্যবসায়ী দালালদের সাথে সাথে এইসব বেহায়া চেতনা-ব্যবসায়ীরাও নিপাত যাক চিরতরে।
জয় বাংলা।

লিঙ্ক