বাংলাদেশের ছেলে শাহীন জার্মানিতে সফলভাবে ছবি তৈরি করে আবার স্বীকৃতি পেলো
বার্লিনের জানালা , মঙ্গলবার, এপ্রিল ১৬, ২০১৩


শাহীন দিল-রিয়াজ বাংলাদেশের চিত্রপরিচালক, থাকেন জার্মানি তে ২০ বছর হয়, সমাজকে নিয়ে বিতর্কমূলক ভালো ছবি তৈরী করেন তিনি, এর মাঝেই বহুবার আন্তর্জাতিক পুরস্কারে তাঁকে ভূষিত করা হয়েছে, গত শুক্রবার জার্মানির ফেডারেল রাজ্য নর্থ রাইন ওয়েস্টফালিয়া এর ‘আডল্ফ গ্রিমে'-র সংস্কৃতি বিষয়ক ক্যাটাগরিতে পাওয়া বিশেষ পুরস্কারটি আবারও শাহিনের ভাগ্যেই জুটলো৷
গত নভেম্বরেই তাঁকে নিয়ে একটি খুশির খবর দিয়েছিল ডয়চে ভেলে৷ সেবার ‘রাকিব খান’-এর জন্য ‘গ্রোসে ক্লাপে’ জয় করেছিলেন শাহীন দিল-রিয়াজ৷ এবার একই ছবির জন্য ‘আডল্ফ গ্রিমে’ পুরস্কার পেলেন এই বাঙালি পরিচালক৷
বাংলাদেশের ছেলে শাহীন জার্মানিতে আছেন অনেকদিন হলো৷ প্রামাণ্য চিত্র নির্মাণের সুবাদে বিশেষ স্বীকৃতি প্রাপ্তি নতুন কিছু নয় তাঁর জন্য৷ জার্মানির বেশ কিছু পুরস্কার জিতেছেন তিনি৷ ২০১০ সালে প্রামাণ্য চিত্র ‘লোহাখোর'-এর জন্য জিতেছিলেন ‘আডল্ফ গ্রিমে' পুরস্কার৷
সেই ছবিটি তৈরি করেছিলেন জাহাজ কাটা শ্রমিকদের নিয়ে৷ চট্টগ্রামের সীতাকুন্ড এলাকায় জাহাজ কাটা শ্রমিকদের খুব কাছাকাছি থেকে শ্রমিকদের কর্মক্ষেত্র এবং দুর্দশার চিত্র ফুটিয়ে তুলেছিলেন তিনি৷ রাকিব খান তথ্যচিত্রটি, যার ইংরেজি নাম ‘প্রজেকশনিস্ট', সেটা তৈরি হয়েছে বাংলাদেশের এক কিশোরকে নিয়ে৷
চাঁদপুরের এক কিশোর৷ বয়স দশ বছর৷ নাম রাকিব খান৷ প্রেক্ষাগৃহে ফিল্ম বদলানোর কাজ করে ছেলেটি৷ এই কাজ করে দিনে ২০ থেকে ২৫ টাকা আয় হয় তার৷ পুরো টাকাটা তুলে দেয় মায়ের হাতে, না দিয়ে উপায়ও নেই, মা আর আরেক ভাইকে নিয়ে তিনজনের সংসার যে ওই টাকাটা ছাড়া চলবে না!
রাকিবের পারিবারিক এবং প্রজেকশনিস্ট জীবনের খুঁটিনাটি দিকগুলোই রূপালি পর্দায় তুলে ধরেছেন শাহীন দিল-রিয়াজ৷ হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়া ছবি৷ ছবিটির জন্য গত বছর শাহীন জিতেছিলেন গ্রোসে ক্লাপে৷
এবার দ্বিতীয় বারের মতো জয় করলেন ‘আডল্ফ গ্রিমে'৷ ‘গ্রোসে ক্লাপে' জেতার পর ডয়চে ভেলেকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে শাহীন বলেছিলেন, ‘‘ছবির কাজ মাত্রই শেষ হয়েছে৷
খুব কম টাকায় করতে হয়েছে হয়েছে ছবিটি৷ তাড়াহুড়ো করে করতে হয়েছে৷ ছবিটির সাফল্য সম্পর্কে আমি আদৌ নিশ্চিত ছিলাম না৷ ছেলেটাকে আমি আগে থেকে খুব ভালোভাবে চিনতাম না৷ তবে আমার প্রচণ্ড ভালো লাগছে যে সবকিছু মিলিয়ে শেষমেষ কাজটি ভালো হয়েছে৷''