কার্নেভাল অফ ওয়ার্ল্ড কালচার বার্লিন: ১০তম বাংলাদেশী অংশগ্রহন
মোনাজ হক, সোমবার, মে ২০, ২০১৩


কার্নেভাল অথবা কার্নিভ্যাল শব্দটা শুনলেই হয়ত অনেকেই ব্রাজিল বা রিও মহানগরীর আনন্দ মধুর চোখধাঁধানো ও বর্ণাঢ্য নৃত্য উত্সব "কার্নেভাল অফ রিও" কেই মনে করে থাকেন, যেখানে আঁট-সাঁট বিকিনি পরে সুন্দরী রমনীরা সাম্বা ও জাম্বা সঙ্গীতের তালে তালে রাজপথে আনন্দময় পরিবেশে নৃত্য উল্লাসে মত্ত থাকে৷ বিন্তু কার্নেভাল ইউরোপেও একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় পরিনত হয়েছে বহুদিন থেকেই, জার্মানিতে কার্নিভ্যাল ঐতিহ্যগতভাবে একটি বড় ক্যাথলিক উত্সব তাই স্বাভাবিক ভাবেই ক্যাথলিক অধিষ্টিত এলাকা যেমন মাইনজ, কোলন, বন সহ রেইন নদীর দুপাশেই কার্নিভ্যাল কালচার গড়ে উঠেছে ১৫ শ শতাব্দী থেকেই ৷ তবে জার্মানির সেই উত্সব শুরু হয় নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারী অবদি চলে, শীতকালীন সময়ে অনুষ্ঠিত হওয়ায় পোশাকের বাহারিত্ত থাকলেও রিও কার্নিভ্যালের মত পোশাকের খোলা মেলা যৌন আবেদন মোটেও থাকেনা ৷

বার্লিন কার্নেভাল অফ ওয়ার্ল্ড কালচার শুরু হয় ১৯৯৬ সনে ৷ এর সাথে সেই সনাতনী কার্নিভ্যালের কোনো মিল নেই, পূর্ব-পশ্চিম এর স্নায়ু যুদ্ধ শেষ হয়ে যাওয়ার পরে বার্লিন প্রাচীর যখন বালির বাঁধের মত ভেগে গেল তখন থেকেই একটা আন্তর্জাতিক সংস্কৃতি কে লালন করার প্রবণতা বার্লিন বাসির মধ্যে দারুন ভাবে কাজ করে, কারণ বার্লিনার অধিবাসীর প্রায় ২০% অভিবাসী অথবা ইমিগ্রান্ট৷ সেই উদ্দীপনাতেই বার্লিন-নিউকোলন উপজেলায় আন্তর্জাতিক কালচারাল ওয়ার্কশপ নাম একটি সংগঠন গড়ে উঠলো যারা আন্তর্জাতিক সংস্কৃতিকে ধরে রাখার জন্যই এই "কার্নেভাল অফ ওয়ার্ল্ড কালচার" এর জন্ম দেয়৷ প্রতিবছর বহুদেশের সংস্কৃতিক সংগঠন গুলি এই কার্নিভ্যাল অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তাদের নিজ নিজ সংস্কৃতিক তুলে ধরে৷

বাঙালিরা ও প্রথম বারের মত ২০০৩ সনে এই অনুষ্ঠানে যোগ দেয় সাউথ এশিয়া ফোরাম এর সাথে একত্রে, পরবর্তিতে "বাংলাদেশ কালচারাল সংঘ" নামে একটি প্রতিষ্ঠান তৈরী করে৷ এভাবেই জার্মানিতে বসবাস করি বাঙালিরা বার্লিনে বাংলা সংস্কৃতির বাহক হিসেবে ১০ ম কার্নিভ্যাল শোভাযাত্রায় অংশ নিল গত ১৯ সে মে ২০১৩ এই অনুষ্ঠানের আকষনীয় দিক হলো নিজের দেশের সংস্কৃতি, গান বাজনা ও বর্ণাঢ্য পোশাকে সজ্জিত হয়ে প্রায় ৬ কিলোমিটার রাজপথে শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়া, যেখানে রাজপথের দুধারে দাঁড়িয়ে থাকা প্রায় ১ মিলিয়ন দর্শক এই ৭ ঘন্টার শোভাযাত্রাকে করতালিতে অভিনন্দন জানায়, প্রতিবারের মতই বাঙালিরা এই শোভাযাত্রায় একটা থেম উপস্থাপনা করে, এবার "বাউল সংস্কৃতি" তুলে ধরে, প্রতিবছর বাঙালিরা এক একটা বিভিন্য বিষয়কে আলোকপাত করে, যেমন গতবার ছিল বাংলার ঋতু বর্ষা৷ সন্ধে বেলায় অংশগ্রহন করিদের মধ্যে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়, একটা জুরি বোর্ড ও থাকে সেখানে ৬ কিলো মিটার রাস্তায়, বাঙালিরা ২০০৭ সনে চতুর্থ স্থান দখল করে৷

এবারের উপস্থাপনা বাউল সংস্কৃত তে যারা প্রতক্ষ অংশ নিয়েছিল তাদের মধ্যে লুত্ফুল, নুড়ি, সাহিদা, রতন, শফিক, খোকন, পিউ, রাফু, নাজমুন সহ আরো অনেকে, পুরো ৭ ঘন্টার এই শোভাযাত্রা শেষে ছোট্ট নৃতশিল্পী পিউ কে কোনভাবেই ক্লান্ত মনে হচ্ছিলনা বরং ওর কাছে বাংলাদেশকে এই ৭ ঘন্টায় জার্মানিতে ১ মিলিয়ন মানুষের মাঝে তুলে ধরতে পারায় ওর চোখ দুটি আনন্দে ছল ছল করছিল৷ এযেন এক অবিশাসো আনন্দ যেটা আবারও সেই শাহাবাগের প্রজন্ম চত্তরের যুব সমাজকেই মনে করিয়ে দেয়৷ এবারের কার্নেভাল অফ ওয়ার্ল্ড কালচারে মোট ৭৪ দেশের বিভিন্ন গ্রুপ অংশগ্রহন করে যাতে প্রায় ৪০০০ উপস্থাপক ও শিল্পী অংশগ্রহন করে, পুরো ৭ ঘন্টার এই বিশাল আয়োজন ৩ টি টেলিভশন চানেল সরাসরি সম্প্রচার করে, আক্ষরিকঅর্থে এই অনুষ্ঠান ১ মিলিয়ন প্রতক্ষ দর্শক ছাড়াও টেলিভশন চানেলে ৮০ মিলিয়ন জার্মান নাগরিক উপভোগ করে৷

প্রতিবেদন: মোনাজ হক


লিঙ্ক