দুই শিল্পী - কাঁকন আর শাহীনের বিয়ে
মোনাজ হক , সোমবার, মার্চ ১৭, ২০১৪


ইউরোপ থেকে শীতের হিমেল হাওয়া তার স্বচ্ছন্দগতির সমাপ্তি ঘোষণা করেছে বেশ কিছুটা সময় আগে এখন প্রকৃতিতে বসন্তের আগমনী বার্তা ঘোষণা দেবার প্রস্তুতি চলছে মাত্র, গাছে গাছে ফুল ফোটার এখনো অনেকটা সময় বাঁকি, ঠিক এমনি এক প্রকৃতির প্রতীক্ষমান সময়ে কাঁকন আর শাহীন জার্মানির বাঙালি গোষ্ঠিকে অবাক করে দিয়ে আনন্দের বারোতা পৌছে দিল গত সপ্তাহে, প্রকৃতির বসন্তের ঘোষণার আগেই কাঁকন আর শাহিন তাদের বিবাহবন্ধনের খবর জানিয়ে প্রকৃতিকেও হারিয়ে দিল। ‘ফুল ফুটুক আর না ফুটুক আজ বসন্ত' তাই কাঁকন আর শাহীনের বিয়ের খবরটা আরো বেশি আগাম আনন্দ।

জার্মানিতে শাহিনের কথা কে না জানে, ঢাকার ছেলে বার্লিনে ফিল্ম একাডেমিতে লেখাপড়া শেষ করে, জার্মানীতেই তৈরী করছে চলচিত্র বহুদিন থেকেই। যারা ওঁর ছবি গুলি দেখেছেন ‘জীবন জলে বেলে' ‘লোহাখোর' ‘রাকিব খান' ইত্যাদি তাদের কাছে শাহীন অনেক চেনা মানুষ, অনেক কাছের মানুষ। অনেক আন্তর্জাতিক পুরস্কার ও শাহীন এরই মধ্যে বাগিয়ে নিয়েছে তার শিল্প কর্মের জন্যে। এইত সেদিন ‘রাকিব খান' ছবিটি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব ‘ডক্সস'-এর ‘গ্রোসে ক্লাপে' পুরস্কারের পর, এবার জার্মানির নর্থরাইন ওয়েস্টফেলিয়া রাজ্যের ‘আইনে-ভেল্ট-ফিল্মপ্রাইজ' জয় করে নিল, এছাড়া ও দুবার গ্রামী অ্যাওয়ার্ড পেয়েছে শাহীন ৷

শাহীনকে তো চিনিই আমরা অনেকদিন থেকেই, এবার দেখি কে এই কাঁকন, আর কিকরেই বা এত সহজেই আমাদের বাঙালি আড্ডা খানা থেকে এই উঠতি চলোচিত্রকারকে ছিনিয়ে নিল? কথা হচ্ছিল সেদিন বার্লিনের একুশের অনুষ্ঠানে, শাহীনই পরিচয় করিয়ে দিল "আমার হবু বউ" বলে, প্রথমে ধ্বনিতাত্বিক অসুবিধা থাকায় আমার বুঝতে অসুবিধা হলেও পরক্ষণেই বুঝলাম কেন এই আকর্ষনীয় নারী আমাদের শাহিনের দৃষ্টি এড়াতে পারেনি। চোখে মুখে বুদ্ধিমত্তার একটা ছাপ আছে, পরিস্কার স্পষ্ট ভাষায় কথা বলে, আর কথা গুছিয়েও লেখে এই কাঁকন। ইতিমধ্যেই একটা কাব্যগ্রন্থ প্রকাশ করেছে । জার্মানির হেসেন রাজ্যের রাজধানী ভিসবাডেন শহরে একটা আমেরিকান কোম্পানিতে কাজ করে, দারুন স্মার্ট এক মেয়ে এই কাঁকন। সেই একুশের অনুষ্ঠানের সামান্য ৩ সপ্তাহ পরেই ওঁরা গত ১২ ই মার্চ ভিসবাডেন এর ঐতিহ্যবাহী টাউনহলে বিবাহ চুক্তিতে সাক্ষর করলো।

কাল যখন ফেস বুক এর মাধ্যমে খবরটা পেলাম প্রথমেই চ্যাট করে ওদেরকে অভিনন্দনজ্ঞাপন করে বলেই ফেললাম, ‘যাক এত দিনে আমাদের শাহীনের ভবঘুরে জীবনের নৌকার হালে বাতাস এলো'। আগের মত স্প্যানিশ গিটার হাতে শাহীনকে হয়ত আর এক আসর থেকে অন্য আসরে ঘুরতে দেখা যাবে না, তবে বার্লিনালে বা কান ফিল্ম ফেস্টিভালে শাহিনের পাশে এখন কাঁকন এসে হয়ত ফিল্মি আড্ডাটা আরো রসালো করে তুলবে।ওরা বার্লিনে নাকি ভিসবাডেন, কোথায় স্থায়ী ভাবে থাকবে এখনো নিশ্চিত নয়, তবে যেখনেই থাকুক, শাহীন এখন থেকে আর একা কামেরার সেলুলয়েড এর ফিতায় প্রামান্য কাহিনীর চিত্র ধারণ করবে না, ওকে একজন কবিতায় সঙ্গ দিয়ে রোমান্টিক উপাখ্যান তৈরী করতে সহায়তা করবে। আর জার্মানিতে বসবাস কারি বাঙালিরা হয়ত আরো বেশি নিপুন ও সৃজনশীল শিল্পকর্ম উপহার পাবে শাহিন আর কাঁকন এর কাছ থেকে।