অভিজিৎ রায়কে হত্যার প্রতিবাদে বার্লিনে মানববন্ধন ও সমাবেশ
সরাফ আহমেদ, সোমবার, মার্চ ০৯, ২০১৫


বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক ও বিজ্ঞানমনস্ক লেখক অভিজিৎ রায়কে মধ্যযুগীয় কায়দায় হত্যার প্রতিবাদে জার্মানির রাজধানী বার্লিনের প্রাণকেন্দ্র ব্রান্ডেনবুর্গ গেটের সামনে ৭ মার্চ শনিবার মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সমাবেশে অভিজিৎ রায়ের হত্যাকারী, তাদের আশ্রয়দাতা ও হত্যার হুমকিদাতা সবাইকে অনতিবিলম্বে গ্রেপ্তার করে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি ও বাংলাদেশে মৌলবাদী রাজনীতি বন্ধের দাবি জানানো হয়।
বার্লিন ও জার্মানির বিভিন্ন শহর থেকে আসা প্রবাসী বাঙালি ও জার্মানরা নাগরিক ব্রান্ডেনবুর্গ গেটসংলগ্ন প্যারিসার স্কয়ারে সমবেত হন৷ কয়েক শ মানুষ মানববন্ধন শেষে প্রতিবাদ সমাবেশে বাংলাদেশে অব্যাহতভাবে মৌলবাদীদের উত্থানের ফলে প্রগতিশীল আন্দোলন ও মুক্তিবুদ্ধি চর্চা হুমকির মুখে পড়েছে বলে আশঙ্কা ব্যক্ত করেন। সমাবেশে বক্তারা বলেন, এ আক্রমণ শুধু ব্যক্তি অভিজিৎ রায়ের ওপর নয়, এটি বাংলাদেশে মুক্তচিন্তা, ধর্মনিরপেক্ষতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, তথা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ওপরই আক্রমণ। সমাজে সাংস্কৃতিক ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা, সহনশীলতার চর্চা ছাড়া এ ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ড রোধের আর কোনো বিকল্প পথ নেই।
দুপুর একটা থেকে শুরু হওয়া এই মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী অনেকেই বক্তব্য দেন৷ তাঁরা বলেন, ‘লেখক অভিজিৎ রায় আর দশজন সাধারণ মানুষ ছিলেন না। তিনি ছিলেন শিক্ষক, গবেষক ও মুক্ত মনের প্রগতিশীল একজন কর্মী এবং অসাধারণ কিছু বিজ্ঞানবিষয়ক পুস্তকের লেখক। অব্যাহতভাবে মৌলবাদী জঙ্গিদের হুমকিতে তিনি ভয় পাননি৷ জীবনের শেষদিন পর্যন্ত তিনি প্রগতিশীল মুক্ত সমাজ গড়ার লক্ষ্যে কাজ করে গেছেন। তাঁর হত্যায় আমরা ভীষণ উদ্বিগ্ন। আমরা তাঁর খুনিদের সর্বোচ্চ চাই। মুক্তমনা লেখক অভিজিৎকে হত্যার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে ধর্মীয় উগ্রপন্থী জঙ্গিবাদের শিকড় ক্রমাগত শক্ত হচ্ছে, আর এ কারণে আমরা প্রবাসীরা স্বদেশে যাওয়া এখন নিরাপদ মনে করছি না।’ বারবার একই ঘটনার পরও বিচার না হওয়া এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে দেশকে মুক্ত করতে হবে।

সমাবেশে জার্মান ও ইংরেজি ভাষায় লিখিত লিফলেট বিলি করা হয়৷ এতে বলা হয় যুক্তি ও মেধা দিয়ে সমাজ পরিবর্তন করে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গঠনের জন্য অভিজিৎ রায় কাজ করছিলেন। অন্ধকারের ধর্মীয় ও মৌলবাদী অপশক্তি তাঁকে হত্যা করেছে। এ ঘটনার দায় সরকার এড়াতে পারে না। এ ধরনের হত্যাকাণ্ড আরও ঘটেছে, যেগুলোর বিচার প্রক্রিয়া শেষ হয়নি। বিচারহীনতার সংস্কৃতি এ হত্যাকাণ্ডের জন্য অনেকাংশে দায়ী।
দুই ঘণ্টা ধরে সমাবেশ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীরা নানা রকম পোস্টার-ফেস্টুন হাতে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানান এবং দেশাত্মবোধক সংগীত পরিবেশন করেন।


লিঙ্ক