বার্লিন কার্নিভাল অফ দি ওয়ার্ল্ড কালচার ২০১৪ - বাংলাদেশী কমুনিটি
মোনাজ হক , রবিবার, জুন ০৮, ২০১৪


প্রতি বছরের মত এবারেও বার্লিন কার্নিভাল অফ দি ওয়ার্ল্ড কালচার ২০১৪ তে বাংলাদেশী কমুনিটি এক বর্ণাঢ অনুষ্ঠান কর্মসুচীর মাধ্যমে ঋতুবৈচিত্রের আকর্ষণীয় ইভেন্ট উপস্থাপনা করলো। ১২ মাসে ১৩ পবনের দেশ বাংলাদেশ তাই এবারের ১৩ তম কার্নিভালে বিষয় আবার ফিরি এসেছিল গ্রীষ্মঋতু। গ্রীষ্মঋতুর প্রখর তাপে বাংলাদেশের জনজীবনে ও নেমে এসেছে এবার চরম দুর্ভোগ।আকাশে গনগনে সুয্যি, কাঠফাটা রোদ্দুরে তপ্ত বাতাস, ছায়াশূন্য পথে তৃষ্ণার্ত পথিক আর হঠাৎ করেই ঝড়ো হাওয়ার তোড়ে উন্মত্ত প্রকৃতি; এই যেন গ্রীষ্মঋতুর চিরচেনা রূপ। রুদ্র গ্রীষ্ম কেবল আগুনই ঝরায় না, বাহারি ফুলের পসরা সাজিয়ে মনও কাড়ে। এ সময় নিষ্প্রাণ, রুক্ষতা ছাপিয়ে প্রকৃতি নিজেকে মেলে ধরে আপন মহিমায় সেই কামনা করেই বাঙালি কমুনিটি এবার ময়ুরের মতই নাচে-গানে বার্লিনের ৫ কিলো মিটার রাজপথ মাতিয়ে রেখেছিল। বাঙালি কমুনিটি ছাড়াও ৮৫ টি দেশের ৫ হাজার কার্নেভালিস্ট প্রায় ৮ লক্ষ্য দর্শকের আনন্দ যুগিয়েছে ৭ ঘন্টার ও বেশি সময় ধরে। পোশাকেও পরিবর্তন হয়েছে এবারের বাঙালি কার্নিভালিস্ট দের, গত বছরের বাসন্তি রঙ এবার জীর্ণ পুরাতন হয়েছে, এবারের রঙ লাল, প্রখর সুর্যের রঙ। ঋতুর পালা বদলের দিন শুরু হয়েছে, কালো করেছে ঈশান কোন। মেঘের গুরু গুরু শব্দে কিশোর-কিশোরী দের মনে বৃষ্টি স্নাতো হওয়ার দুরু দুরু কাপন, সজল চোখের কাজলের সাথে মেঘকে সাজিয়ে নেবার আকুতি যেন তাদেরকে ঘিরে বসেছে আজ। আজ মুয়ুর পেখম তুলে নাচবে আর বৃক্ষগুলো বর্ষার জলে স্নান করবে। বর্ষার থই থই জলে ভরে উঠবে শুকিয়ে যাওয়া নদীর যৌবন।তাইত এবারের কার্নিভার শোভাযাত্রায় ময়ুরের সাজে সাজানো হয়েছে গাড়ীর বহর। বিগত ১৩ বছর ধরে বাংলাদেশী কমুনিটির উদ্যোক্তারা এই বার্লিন কার্নিভালের আয়োজনের মাধ্যমে পুরো ইউরোপের বাঙালি দেরকে এক মিলন মেলার সুযোগ করে দিয়েছে। জার্মানির বিভিন্ন শহর থেকে আসা অতিথিতিদের পাশাপাশি লন্ডন, মাদ্রিদ, কোপেনহেগেন ও স্টকহলম থেকে আসা বাঙালিরাও এই সাংস্কৃতিক বর্নাঢ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে একদিকে যেমন এদেশের মানুষের কাছে বাংলা সংস্কৃতি তুলে ধরার সুযোগ পেয়েছে তেমনি নিজেদের মাঝে সৌহার্ধ ও সম্প্রীতি বারবার এক অপূর্ব অনুভূতি খুঁজে পেয়েছে। বহুদিন দেশের বাইরে থাকার কারণেই হয়তবা মনেহয় বাঙালিরা উপলব্ধি করেছে যে, সমাজ ও সংস্কৃতি কেবল অহিংসা ও শান্তিময়তার বাতাবরণে অগ্রশীল হতে পারে৷ বিশ বছর বার্লিন কার্নিভালের বয়স এর মাঝে অনেক রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে বটে, কিন্তু জার্মানিতে এখনো একটি প্লুরালিস্ট বা বহুতাত্ত্বিক সমাজ প্রতিষ্ঠিত হয়নি, বর্ণবাদ বৈষম্য দৈনন্দিন উপস্থিত, দিন যাচ্ছে নেই শুধু ইউরোপের রাজনৈতিক আড়াআড়ি স্থিতিশীলতা, পুনরুত্থিত ডানপন্থী দ্বারা প্রগতিবাদ জনজীবন নিয়মিত হুমকির সম্মুখীন হচ্ছে, জার্মান সমাজ এখনো তার সংকীর্ণতা থেকে বেরিয়ে এসে এতো সহজেই সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং একে অপরের সমান জনসংখ্যার জাতিগত উত্স প্রদান করতে পারবে বলে মনে হচ্ছে না। তাই আজ এমনকি মাত্র এই চার দিনের জন্য হলেও যদি এখনও একটি প্লুরালিস্ট সমাজ এবং তার প্রদত্ত রূপরেখা যেমন একটি ভিন্নধর্মী জনগোষ্ঠী (পাবলিক) প্রয়োজন সেটি এই কার্নিভালের মাধ্যমে হলেও একটি প্রয়োজনীয় শৈল্পিক এলাকা সৃষ্টি করতে পারে। হিংসার দ্বারা কোনও সমস্যার সমাধান হয় না৷ হিংসা কেবল প্রত্যেক বেদনাই বাড়িয়ে তোলে৷ হিংসা ও সংঘাতের অন্ধকার সময় পিছিয়ে থাকুন৷ একটি নতুন ভোরের উদয় হোক৷ -

লিঙ্ক